অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে বাতিল ২৯ প্রকল্প, সাশ্রয় ৫,৮৪৭ কোটি টাকা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে বাতিল ২৯ প্রকল্প, সাশ্রয় ৫,৮৪৭ কোটি টাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 15, 2026 ইং
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে বাতিল ২৯ প্রকল্প, সাশ্রয় ৫,৮৪৭ কোটি টাকা ছবির ক্যাপশন:
ad728

সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া অপ্রয়োজনীয় ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ১২ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাতিলের ফলে প্রায় ৫ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর একটি বড় অংশই অর্থনৈতিক যুক্তি ও বাস্তব চাহিদা ছাড়াই অনুমোদন পেয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকল্পগুলো বারবার সংশোধন হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। প্রকল্প বাতিলের আগেই এসব খাতে প্রায় ৬ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।

গত সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপি অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে পরিবহন, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের একাধিক প্রকল্প বাদ দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।

বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার প্রকল্প। ২০১৬ সালে অনুমোদিত এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯২৮ কোটি টাকা। কিন্তু প্রায় এক দশক পার হলেও প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ।

এ ছাড়া দুই থেকে নয় বছর ধরে চলমান চারটি প্রকল্পে কার্যত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘসূত্রতা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার দুর্বল সক্ষমতার কারণে এসব প্রকল্প কার্যকারিতা হারায়।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্প রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পেয়েছে, যেগুলোর পেছনে অর্থনৈতিক কোনো যুক্তি ছিল না। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঠেকাতে এসব প্রকল্প বর্তমান অবস্থাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় হলেও বাস্তবায়নে অযোগ্য এমন প্রকল্প বাতিলের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রকল্পগুলোতে। পার্বত্য তিন জেলায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা ব্যয় হলেও সেটিও বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে জামালপুর-ধনুয়া-কামালপুর-রৌমারী-দাটভাঙ্গা জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প প্রায় অর্ধেক কাজ হওয়ার পর বন্ধ করা হয়।

কিছু প্রকল্প আবার কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই অনুমোদন পেয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ছয়টি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পে এক টাকাও ব্যয় না করেই পুরো প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। খুলনায় বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্পেও ব্যয় হয়েছিল মাত্র শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ, তবু সেটি বন্ধ করা হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনজিওদের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য সাতটি প্রকল্পও বাতিল হয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় হলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক সেবার নামে এসব প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপব্যবহার হয়েছে। এতে প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণসহ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্মৃতিসংশ্লিষ্ট প্রকল্পও দীর্ঘসূত্রতা ও বারবার সংশোধনের কারণে বাতিল করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাতিলের ক্ষেত্রে শুধু ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়া অর্থ নয়, ভবিষ্যতে আরও বড় অঙ্কের অপচয় ঠেকানোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক যুক্তি ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা না থাকলে প্রকল্প বাতিল করাই যে উত্তম সিদ্ধান্ত—এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সরকার এগিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিবেচনায় অযৌক্তিক প্রকল্প অনুমোদন ঠেকাতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই চালু করা হবে। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক, শুল

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক, শুল