জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে নির্মিত ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব সাজিদুর রহমান এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বলেছে, জাদুঘরে তাদের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপন শরিয়তের বিধানের পরিপন্থী এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ হারাম এবং ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ নেই।
হেফাজতের নেতারা আরও বলেন, অতীতে ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরোধিতা করতে গিয়ে বহু আলেম জীবন দিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাই স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাদের অবয়বে ভাস্কর্য নির্মাণকে তারা অসম্মানজনক বলে মনে করছেন।
বিবৃতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের নামে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে উপেক্ষা না করার আহ্বানও জানানো হয়।
একই সঙ্গে সরকারকে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সেগুলো হলো—
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।
- ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।
বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটি অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেছে, এ বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা করা হলে আলেম সমাজ নীরব থাকবে না।
কসমিক ডেস্ক