বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফরিদপুর ও ভোলায় আহত অন্তত ২০ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফরিদপুর ও ভোলায় আহত অন্তত ২০

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফরিদপুর ও ভোলায় আহত অন্তত ২০ ছবির ক্যাপশন:
ad728

ফরিদপুর ও ভোলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সহিংস রূপ নিয়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় দলটির বিভিন্ন পক্ষ ও অঙ্গসংগঠনের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত ও মঙ্গলবার দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুরে ‘নব্য’ বিএনপি নেতাদের শক্তি প্রদর্শন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বিএনপির দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের পেছনে মূল কারণ ছিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিএনপিতে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া সাবেক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এই সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তিতাস এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ফকির। বর্তমানে উভয় পক্ষই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সমর্থন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজাহান শিকদারের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

এ বিষয়ে শাহজাহান শিকদার বলেন, যারা হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে তারা অল্প কয়েকদিন আগেই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। তাঁর দাবি, হামলার শিকার সবাই বিএনপির সক্রিয় কর্মী।

অন্যদিকে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তিতাস দাবি করেন, ঘটনাটি দলীয় নয় বরং পারিবারিক বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ পরিস্থিতিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলায় শ্রমিক দল ও যুবদলের সংঘর্ষ

এদিকে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই অঙ্গসংগঠন—শ্রমিক দল ও যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটনের অনুসারী এবং যুবদলকর্মী গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার ও মিজানের অনুসারীরা জড়িয়ে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

আহতদের মধ্যে চারজনকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইকবাল হোসেন লিটনের অভিযোগ, পুরোনো একটি ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার তিনি তাঁর পাওনা বুঝে নিতে গেলে যুবদলের কিছু কর্মী তাঁর ওপর হামলা চালান।

অন্যদিকে যুবদলকর্মী গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইকবাল হোসেন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানায়। সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

তজুমদ্দিন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশান্ত মালো জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায়ও এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

সামগ্রিক চিত্র

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ আধিপত্যের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। নতুন ও পুরোনো নেতাদের শক্তি প্রদর্শনের এই প্রবণতা স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সীমানা জটিলতা কাটল, ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন

সীমানা জটিলতা কাটল, ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন