আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের বিজয় নিশ্চিত করতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে শরিক দলগুলোর জন্য ১৭টি আসন ছেড়ে দিলেও এসব আসনের বেশ কয়েকটিতে বিএনপির স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল জোট। সেই প্রেক্ষাপটে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৭টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটিতে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। বাকি আসনগুলোতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ‘প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে দেখছেন জোট নেতারা। এ অবস্থায় বিএনপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বোঝানোর চেষ্টা চালায়। তাতে কাজ না হওয়ায় বহিষ্কারসহ সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ইতোমধ্যে ছয়টি আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর সর্বশেষ বুধবার আরও ছয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। দলটি মনে করছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের রেখে নির্বাচনে গেলে জোটের কাছে ভুল রাজনৈতিক বার্তা যেতে পারে এবং যুগপৎ আন্দোলনের ঐক্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়ায় দলে স্বাভাবিকভাবেই অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দল চায় সবাই এক হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করুক।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৯ জন নেতাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
নির্বাচনী মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব কমাতে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রচারণাও জোরদার করছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করেছেন। আজ থেকে জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সব বিভাগীয় শহরে সভা করবেন তিনি। জোট প্রার্থীদের আসনেও সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।
দলীয় নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের সরাসরি মাঠে নামার ফলে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের পক্ষে জনসমর্থনের ঢেউ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীরা ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, নির্বাচন শুরুর দিকে ১১৭টি আসনে প্রায় ১৯০ জন নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর বর্তমানে ৭৫টি আসনে ৮৬ জন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তবে জোটের স্বার্থ রক্ষায় এ সংখ্যা আরও কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে দলটি।
কসমিক ডেস্ক