আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পথে রিটার্নিং অফিসারদের যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাদ পড়েছেন। যাঁরা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিংবা বিএনপির প্রার্থী পরিচয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সংক্রান্ত শর্ত। বহু প্রার্থী নির্ধারিত সংখ্যক বৈধ স্বাক্ষর উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন না থাকা সত্ত্বেও বিএনপির প্রার্থী পরিচয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়া ব্যক্তিরা দলীয় অনুমোদনের প্রমাণ দেখাতে না পারায় অযোগ্য ঘোষিত হচ্ছেন।
যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, বিএনপির মূল দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের হার অন্যান্য দলের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। কিছু আসনে একাধিক বিএনপি প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও একজন বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী বহাল থাকছেন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করতে হবে দলকে।
যশোর-৪ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী টি এস আইয়ুবের মনোনয়ন ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হলেও একই আসনে বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফরাজির মনোনয়ন বৈধ রয়েছে। সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে সাময়িক স্থগিত ছিল। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করায় প্রমাণপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
যাচাইয়ে বাদ পড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী, একই জেলার বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোমিন আলী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নেতা মো. মহিউদ্দিন। এছাড়া টাঙ্গাইল-১ আসনে মোহাম্মদ আলী, আবদুল হালিম মিঞা, শাহ আলম তালুকদার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে নূরে আলম ছিদ্দিকীর মনোনয়নও বাতিল হয়েছে।
এদিকে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসাররা জানিয়েছেন, যাচাইয়ে তাঁর মনোনয়নে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বগুড়া-৭, দিনাজপুর-৩ ও ফেনী-১ আসনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাখিল করা মনোনয়ন সংক্রান্ত সব নির্বাচনী কার্যক্রম তাঁর মৃত্যুর কারণে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যান্য দলের ক্ষেত্রেও মনোনয়ন যাচাই অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমানসহ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে, তবে বিভিন্ন অভিযোগে জামায়াত ও অন্যান্য দলের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বা স্থগিত রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন শীর্ষ নেতার মনোনয়নও যাচাইয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসারদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম রবিবার পর্যন্ত চলবে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তি শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।