সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 11, 2026 ইং
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলাদেশ সচিবালয়কে সরকারের অতি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য অধিদপ্তরের দেওয়া প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের নিয়ম চালু রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই ব্যবস্থাও এখন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

গত ডিসেম্বরে সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তার যুক্তিতে হঠাৎ করেই অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়। দেশি-বিদেশি পর্যায়ে সমালোচনার মুখে পড়ে পরে একটি অস্থায়ী তালিকার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক সাংবাদিককে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে মাত্র ৬১৫ জন সাংবাদিক সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারছেন, যদিও আরও বহু সাংবাদিকের বৈধ অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড রয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় শতাধিক সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের ফলে সাংবাদিকেরা নিয়মিত পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি তথ্য যাচাই বা সরকারি সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের অজানা নয়। বিভিন্ন সভা ও আলোচনায় সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ঢালাওভাবে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে উদ্বেগ জানিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

সরকার গত বছর তিন ধাপে ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করে এবং তখন এটিকে সাময়িক ব্যবস্থা বলা হয়েছিল। পরে জানানো হয়, প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং কোনো সাংবাদিক চাইলে লিখিত আবেদন করতে পারবেন। তবে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কার্ড বাতিল করে পরে সাংবাদিকদেরই নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের দায়িত্ব দেওয়া—এটি প্রশ্নবিদ্ধ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা, ২০২২ পুনর্মূল্যায়নের জন্য গত জানুয়ারিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন নীতিমালা জারি করা হলেও এখনো সেই নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যুর জন্য কোনো কার্যকর কমিটি গঠন হয়নি। তথ্য অধিদপ্তর প্রস্তাব পাঠালেও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে দেরির কারণ স্পষ্ট নয়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—কিছু মহল চাইছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিরাপত্তা পাসের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সচিবালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে। এতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার কার্যত সীমিত হয়ে পড়বে, যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

গত ২৬ জুন এক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত কার্ড ইস্যুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তবে সেই ‘দ্রুত সময়’ কবে বাস্তবে আসবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরা।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সচিবালয়ে প্রবেশের বাধা অপসারণ করা জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে যা জানালেন ইসি

তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে যা জানালেন ইসি