ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির জনগণের যোগাযোগব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে ধারাবাহিক ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ হিসেবেই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এমন পদক্ষেপ সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং পারস্পরিক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট এবং স্থানীয় মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ তথ্য স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের বরাতে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, তাদের ‘নিজ নিজ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া’ হবে।
এদিকে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। যারা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনা রোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মতপ্রকাশ, সংগঠন গঠন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও নিজেদের দাবি প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে বিক্ষোভ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কসমিক ডেস্ক