বিতর্কিত তিন নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন জমা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিতর্কিত তিন নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন জমা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 12, 2026 ইং
বিতর্কিত তিন নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন জমা ছবির ক্যাপশন: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিশন।
ad728

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার ফল—এমন তথ্য উঠে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ‘অভিনব’ নির্বাচনী পরিকল্পনার সূচনা হয়েছিল ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই এবং তা বাস্তবায়ন করা হয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কমিশন জানায়, তিনটি নির্বাচনে অনিয়মের সঙ্গে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্ত থাকায় এবং তদন্তের জন্য বরাদ্দ সময় অপ্রতুল হওয়ায় সুনির্দিষ্টভাবে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবুও সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অপব্যবহারের সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সন্দেহজনক ছিল এবং সেই নির্বাচন নিয়েও তদন্ত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আলাদা অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে কমিশন।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে যমুনার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ ও সুপারিশ তুলে ধরেন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিশনের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কমিশনের সভাপতি হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক গ্রেড-১ কর্মকর্তা শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক, আইনজীবী তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আবদুল আলীম। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এসব নির্বাচনে নানা কৌশলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করার অভিযোগ উঠেছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধানে নির্ধারিত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘিত হয়েছে। এর ফলে দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, গণতন্ত্র সুরক্ষিত রাখা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই অন্তর্বর্তী সরকার এই তদন্ত কমিশন গঠন করে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কেরানীগঞ্জে ২১ দিন পর মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে ২১ দিন পর মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার