৮ ঘণ্টার কথা, চলছে ৪–৫ ঘণ্টা: পুলিশের বডি ক্যামেরা বিতর্ক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

৮ ঘণ্টার কথা, চলছে ৪–৫ ঘণ্টা: পুলিশের বডি ক্যামেরা বিতর্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 13, 2026 ইং
৮ ঘণ্টার কথা, চলছে ৪–৫ ঘণ্টা: পুলিশের বডি ক্যামেরা বিতর্ক ছবির ক্যাপশন:
ad728

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে কয়েকশ’ কোটি টাকার পুলিশের বডি ক্যামেরা কেনা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে এসব ক্যামেরা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রয়প্রক্রিয়া ও সরঞ্জামের মান নিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বডি ক্যামেরার সঙ্গে সরবরাহ করা ব্যাটারির মান প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার ব্যাটারি পুলিশ টেলিকম কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। এসব ব্যাটারির সর্বোচ্চ চার্জ থাকার কথা ছিল আট ঘণ্টা। কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যাটারি চার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার বেশি সচল থাকছে না।

একাধিক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই ব্যাটারি দিয়ে নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় নয় ঘণ্টা। সেখানে চার–পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে চার্জ শেষ হয়ে গেলে পুনরায় চার্জ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, শুরু থেকেই বডি ক্যামেরা কেনার পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। টেন্ডার ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলেই নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রয় শাখায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগেও পুলিশের প্রয়োজনে বডি ক্যামেরা কেনা হয়েছে এবং তখন প্রতিটি ক্যামেরার দাম ছিল প্রায় ৪২ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই ক্যামেরা তুলনামূলক বেশি দামে কেনা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার দাবি, এ ক্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বাহিনীর ভেতরে ওপেন সিক্রেট হিসেবে আলোচিত।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একাধিক সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে—এমন ভোটকেন্দ্রগুলোতেই মূলত এসব বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যামেরাগুলো ভিডিও ও অডিও ধারণের পাশাপাশি সরাসরি অনলাইনে কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে নির্বাচনকালীন কন্ট্রোল রুম থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তবে এসব সুবিধা কার্যকর করতে হলে মানসম্মত ব্যাটারি ও নির্ভরযোগ্য যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করল হেফাজতে ইসলা

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করল হেফাজতে ইসলা