সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশসহ নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন–ভাতা বর্তমান কাঠামোর তুলনায় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। তবে বেতন গ্রেডের সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে আগের মতোই ২০টি ধাপ বজায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা। সুপারিশগুলো পর্যালোচনা শেষে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই কমিশন তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছিল। আউটলাইন দেখেই বোঝা যায়, এটি একটি সৃজনশীল ও পরিশ্রমী কাজ।”
কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।
তিনি আরও বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বেড়েছে, ফলে বিদ্যমান বেতনকাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কমিশন সময়োপযোগী বেতন ও ভাতা কাঠামোর সুপারিশ করেছে।
প্রেস উইং জানায়, কমিশন সুপারিশ প্রণয়নের আগে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে মোট ১৮৪টি সভা করেছে এবং ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রতিবেদন বাস্তবায়নই এখন সরকারের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হবে, যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করবে।
সব মিলিয়ে, এক যুগ পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ অতিক্রম করল সরকার।
কসমিক ডেস্ক