বাংলাদেশে দিন দিন বেকার এর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুব সমাজের মধ্যে কর্মসংস্থানের সংকট উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বেকারত্বের পাশাপাশি বিদেশে কাজের আগ্রহও দ্রুত বাড়ছে।
এই বাস্তবতায় ইউরোপের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ইউরোপের অনেক দেশে জনসংখ্যা কমে যাওয়া, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
🇮🇹 ইটালি: পরিচিত ও পরীক্ষিত শ্রমবাজার
ইউরোপে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ইটালি দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম প্রধান গন্তব্য। দেশটিতে নির্মাণ, কৃষি, গৃহসেবা, হোটেল–রেস্টুরেন্ট এবং কেয়ারগিভার খাতে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে।
ইটালিতে কাজ করতে সাধারণত বয়সসীমা ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হয়। সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ সনদ, নিয়োগকর্তার কাজের অফার বা স্পন্সর, মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাশাপাশি BMET-এ নিবন্ধন ও প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি বা দূতাবাস অনুমোদিত চ্যানেলে গেলে ইটালিতে কাজ তুলনামূলক নিরাপদ।
🇪🇸 স্পেন: নতুন সম্ভাবনার দেশ
স্পেন বর্তমানে শ্রমিক সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি, গৃহসেবা, কেয়ার এবং পর্যটন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। স্পেনে যেতে হলে বৈধ কাজের অফার লেটার, পাসপোর্ট ও ভিসা আবেদন, স্বাস্থ্য বীমা এবং মেডিকেল রিপোর্ট প্রয়োজন।
স্প্যানিশ ভাষা জানা বাধ্যতামূলক না হলেও ভাষাজ্ঞান থাকলে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়। বিশ্লেষকদের মতে, স্পেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বড় একটি বাজারে পরিণত হতে পারে।
🇵🇹 পর্তুগাল: কম কড়াকড়িতে কাজের সুযোগ
পর্তুগালকে ইউরোপের অন্যতম শ্রমবান্ধব দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে নির্মাণ, হোটেল–রেস্টুরেন্ট, ক্লিনিং ও কেয়ার সেক্টরে কাজের সুযোগ রয়েছে। ভাষার কড়াকড়ি তুলনামূলক কম এবং বৈধভাবে কাজ শুরু করলে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয়ও এখানে কম।
🔧 কোন খাতে বেশি চাহিদা
নির্মাণ শ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, মেকানিক, কেয়ারগিভার, গৃহকর্মী, হোটেল–রেস্টুরেন্ট কর্মী এবং কৃষি শ্রমিকদের ইউরোপের শ্রমবাজারে তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে।
⚠️ সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা দালাল বা অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা, BMET ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাই করা এবং যাওয়ার আগে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সঠিক পরিকল্পনা ও বৈধ প্রক্রিয়ায় ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তা ব্যক্তি ও দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক