মিরসরাইয়ে ডেল্টা ফার্মার ১০০ মিলিয়ন ডলারের কারখানার নির্মাণকাজ শুরু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মিরসরাইয়ে ডেল্টা ফার্মার ১০০ মিলিয়ন ডলারের কারখানার নির্মাণকাজ শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 9, 2026 ইং
মিরসরাইয়ে ডেল্টা ফার্মার ১০০ মিলিয়ন ডলারের কারখানার নির্মাণকাজ শুরু ছবির ক্যাপশন:

দেশের ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (এনএসইজেড) অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) ও বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে ডেল্টা ফার্মা। প্রকল্পটিতে দীর্ঘমেয়াদে মোট ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর প্রথম ধাপে প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডেল্টা ফার্মার দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান—ডেল্টা লাইফ সায়েন্সেস পিএলসি ও ডেল্টা এপিআই লিমিটেড—বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছ থেকে মোট ৪২ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে ডেল্টা লাইফ সায়েন্সেসকে ৩০ একর এবং ডেল্টা এপিআইকে ১২ একর জমি দেওয়া হয়েছে।

এক প্রকল্পে একাধিক উৎপাদন ইউনিট

প্রকল্পের আওতায় বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ফিল-ফিনিশ ও ফর্মুলেশন ফ্যাসিলিটি, অনকোলজি ইউনিট, হারবাল ও নিউট্রাসিউটিক্যাল ইউনিট, এআই-চালিত উৎপাদন ইউনিট এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিটে ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, এরিথ্রোপোয়েটিন, ফিলগ্রাস্টিমসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি জমি বুঝে পাওয়ার পর ডিজিটাল সার্ভে ও মাটি পরীক্ষা শুরু করে। প্রয়োজনীয় নকশা, মাস্টারপ্ল্যান ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে নির্মাণ সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। সব মিলিয়ে ২০২৯ সালের আগে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

এপিআই উৎপাদনে ১২.৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

ডেল্টা এপিআই লিমিটেড ১২ একর জমিতে ১২.৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে এপিআই কারখানা স্থাপন করছে। বর্তমানে দেশের ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর বলে জানান জাকির হোসেন। ফলে দেশে এপিআই উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে ১৫২ থেকে ১৫৫টি দেশে তৈরি ওষুধ রপ্তানি করছে এবং দেশের মোট ওষুধের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে।

ওষুধশিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৩৮ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের ২১৩ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, সরকার ওষুধশিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে।

মিরসরাইয়ের প্রায় ২৫ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে গড়ে ওঠা এনএসইজেডে ডেল্টা ফার্মার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভোট দিলেন গুলশান কেন্দ্রে

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভোট দিলেন গুলশান কেন্দ্রে