বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বুধবার তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য জেনারেল সিটে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের আইনজীবীদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
শিশির মনির তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “সারা দেশের বিজ্ঞ আইনজীবী বন্ধুদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।” তাঁর এই ঘোষণার পর আইন অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী ও প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এই সংস্থা আইনজীবীদের নিবন্ধন, শৃঙ্খলা, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
বার কাউন্সিল নির্বাচনের মাধ্যমে আইনজীবীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, যারা পরবর্তীতে সংস্থাটির পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। ফলে এই নির্বাচন আইন অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বার কাউন্সিল নির্বাচন ২০২৬ সালের ১৯ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয় বলে ৪ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।
আইনজীবী মহলে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে নানা ধরনের প্রস্তুতি ও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কাজ করছেন।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত আছেন এবং সংবিধান ও ফৌজদারি মামলায় তাঁর অংশগ্রহণের জন্য তিনি পরিচিত। আইনজীবী মহলে তাঁর একটি নির্দিষ্ট অনুসারী গোষ্ঠীও রয়েছে।
বার কাউন্সিল নির্বাচন সাধারণত আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার, নেতৃত্ব এবং নীতিগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে থাকে। ফলে এবারের নির্বাচনও বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশির মনিরের প্রার্থিতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনজীবীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে স্বাগত জানালেও অনেকে নির্বাচনী লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, আসন্ন বার কাউন্সিল নির্বাচন আইন অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও পেশাগত ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিশির মনিরের প্রার্থিতা সেই প্রতিযোগিতাকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক