২৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে কারাবন্দি আনিসুলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

২৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে কারাবন্দি আনিসুলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 12, 2026 ইং
২৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে কারাবন্দি আনিসুলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা ছবির ক্যাপশন:
ad728

চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত প্রায় ২৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার ভাটারা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সিআইডি।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন আনিসুল হকের সহযোগী হিসেবে পরিচিত তৌফিকা করিম, তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবন এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান। এজাহারে তৌফিকা করিমকে সাবেক আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানের বরাতে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেন এবং তা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের গুলশান শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১০ লাখ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো।

সিআইডি জানায়, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তৌফিকা করিমের আইনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটস’-এর সঙ্গে নামমাত্র আইনি পরামর্শ চুক্তি করেন। এর আওতায় তিনি নিয়মিতভাবে তৌফিকার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করতেন। শুধু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকেই আদায় করা হয় ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া অনুসন্ধানে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তৌফিকার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা মোট ২৬টি হিসাবে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা। আদালতের আদেশে এই অর্থ ইতোমধ্যে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

সিআইডির অভিযোগে আরও বলা হয়, আনিসুল হক আইনমন্ত্রী হওয়ার পর তৌফিকা করিম ও রাশেদুল কাওসারকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সময়ে তিনি ‘লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসন্স’ নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। এতে তৌফিকাকে চেয়ারম্যান, কাওসারকে সেক্রেটারি জেনারেল এবং নিজে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনিসুল হক। অভিযোগ রয়েছে, এই এনজিওর নামে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদার অর্থ আদায় করা হতো।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আট দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি আদালতের আদেশে তার তিনটি গাড়িসহ প্রায় ৫৮৪ শতাংশ জমি জব্দ করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলার মাধ্যমে অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি: স্ত্রীসহ ৯৫ জনকে আসামি করল দুদ

এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি: স্ত্রীসহ ৯৫ জনকে আসামি করল দুদ