আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব ঠেকাতে এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া সম্পদের তথ্য যাচাই করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংস্থাটি ১৫টি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে মাঠে নামছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার (১১ জানুয়ারি) গঠিত এই টাস্কফোর্সগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে দুর্নীতি, অবৈধ অর্থের ব্যবহার এবং মিথ্যা সম্পদ বিবরণী শনাক্তে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। প্রতিটি টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন করে উপপরিচালক। ১৫টি দলে মোট ৯০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রতিটি দলে দুজন সহকারী পরিচালক, দুজন উপসহকারী পরিচালক এবং একজন করে কনস্টেবল বা সাপোর্টিং স্টাফ রয়েছেন।
দুদকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কমিশনের ৩৫/২০২৫ নম্বর সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ অনুসন্ধান, মানি লন্ডারিং, অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ এবং অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ অনুবিভাগের আওতাধীন সব চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি আনতেই এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তবে নির্বাচনকেন্দ্রিক দুর্নীতির বিষয়গুলোও এসব টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে থাকবে।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগে অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল। ফলে অনেক কর্মকর্তার ওপর একসঙ্গে অসংখ্য ফাইলের চাপ থাকত। নতুন এই টাস্কফোর্স পদ্ধতিতে দলভিত্তিকভাবে দায়িত্ব বণ্টন হওয়ায় কাজের গতি বাড়বে, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে এবং হয়রানি কমবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে দুদকের বড় সুযোগ হচ্ছে—যেন দুর্নীতিবাজ কেউ সংসদ সদস্য হতে না পারে। যারা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বা অবৈধ সম্পদের মালিক, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সেটিই হবে এই টাস্কফোর্সের বড় সাফল্য।
দুদকের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করেন, এই ব্যবস্থার ফলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির সুযোগও কমবে। দলভিত্তিক কাজের কারণে একজন কর্মকর্তার অনিয়ম অন্য সদস্যরা সহজেই নজরে আনতে পারবেন, এতে স্বচ্ছতা বাড়বে।
এদিকে নির্বাচনকালীন দুদকের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আসে। দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন ও নির্বাচনের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে সামগ্রিক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
প্রার্থীদের হলফনামা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে প্রতিটি হলফনামা গভীরভাবে যাচাই করা কঠিন। তবে নির্বাচন কমিশন বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো অসংগতি সামনে এলে তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেও দুদক ব্যবস্থা নেবে।
দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে। অপ্রদর্শিত সম্পদের মালিকরা যেন রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসতে পারে— সেটিই দুদকের মূল লক্ষ্য।