এভাবে বিদায় শোভনীয় হয়নি, ভবিষ্যতে যোগ্য লোক আসতে চাইবেন না The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এভাবে বিদায় শোভনীয় হয়নি, ভবিষ্যতে যোগ্য লোক আসতে চাইবেন না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 26, 2026 ইং
এভাবে বিদায় শোভনীয় হয়নি, ভবিষ্যতে যোগ্য লোক আসতে চাইবেন না ছবির ক্যাপশন: অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তাঁর মতে, নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনতে পারে—এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-এর বিদায়ের ধরন শোভনীয় হয়নি এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক সংকেত বহন করে।

জাহিদ হোসেন বলেন, গভর্নর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে। কিন্তু যেভাবে বিষয়টি হয়েছে, তা আরও মসৃণ ও সম্মানজনক হতে পারত। বিদায়ী গভর্নর নতুন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, এমনকি সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন। এরপর হঠাৎ জানতে পারেন, তিনি আর দায়িত্বে নেই। আগেই যদি স্পষ্টভাবে জানানো হতো, তাহলে প্রক্রিয়াটি বেশি গ্রহণযোগ্য হতো।

তাঁর মতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহ নতুন সরকারের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক ও নীতিনির্ধারণী পদে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে শালীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় এটি প্রতিষ্ঠানগত স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, বিদায়ী গভর্নর কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ—এসবের মধ্যে তিনি কিছু সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া যেত বলে তিনি মনে করেন।

তাঁর ভাষায়, “এ ধরনের প্রস্থান সংকেত দেয় যে ভবিষ্যতে যোগ্য লোক এ ধরনের পদে আসতে চাইবেন না।” অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পদে কাজ করতে আগ্রহী পেশাদারদের জন্য এটি নিরুৎসাহজনক বার্তা হতে পারে।

বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন গভর্নরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় যে সংস্কার কার্যক্রম চলছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনসহ কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এই একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা নতুন গভর্নরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গেও তিনি সতর্কতা দেন। তাঁর মতে, দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একার পক্ষে সম্ভব নয়। আর্থিক ও রাজস্ব নীতির সমন্বয় প্রয়োজন। তবু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদকে তিনি ‘হট সিট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কারণ, এ পদে বসা ব্যক্তিকে একদিকে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হয়, অন্যদিকে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের চাপ সামলাতে হয়।

সাবেক বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে জাহিদ হোসেন মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত শালীনতা রক্ষা করা হলে তা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়ায়।

সব মিলিয়ে, গভর্নর পরিবর্তনের ঘটনাকে তিনি কেবল ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আর্থিক খাতে চলমান সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং যোগ্য পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে একটি স্থিতিশীল ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মোংলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দোয়া মাহফিলে হামলা, খাবার লুট ও আ

মোংলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দোয়া মাহফিলে হামলা, খাবার লুট ও আ