শীতের মৌসুমের ভরপুর সরবরাহে রাজধানীর কাঁচাবাজারে স্বস্তির হাওয়া বইছে সবজি ও পেঁয়াজের দামে। কুয়াশাভেজা সকালে বাজারজুড়ে শীতকালীন সবজির আধিক্য দেখা গেলেও হঠাৎ করে চিনির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা ও মোড়কজাত—উভয় ধরনের চিনির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক মাস ধরে চিনির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তবে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে দাম বাড়তে শুরু করায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বর্তমানে খোলা চিনি প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৯০ টাকা। মোড়কজাত চিনির দামও ৯০–৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০০–১০৫ টাকায় পৌঁছেছে।
কাজীপাড়া এলাকার মুদি দোকানি আরিফ হোসেন জানান, পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে বিকল্প নেই। প্রতি প্যাকেট চিনিতে লাভ থাকে মাত্র ৪–৫ টাকা। তিনি বলেন, নতুন মোড়কে যেসব চিনি বাজারে আসছে, সেগুলোর দাম আগের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করেছে কোম্পানিগুলো।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
অন্যদিকে, বাজারে সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা পেঁয়াজ ও আলু। নতুন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। এক মাস আগে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১৩০–১৫০ টাকা কেজি দরে, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬০–৬৫ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫–৭০ টাকায়।
আলু ও পেঁয়াজ বিক্রেতা হেলাল বলেন, নতুন দেশি পেঁয়াজ ও আলু স্বাদে ভালো হওয়ায় ক্রেতারা সেগুলোই বেশি কিনছেন। ফলে পুরোনো আলুর চাহিদা কমে গেছে।
সরবরাহ বাড়ায় শীতকালীন সবজির দামও কমেছে। বাজার ও মানভেদে শিম ৩০–৪৫ টাকা, মূলা ৩০–৩৫ টাকা, বেগুন ৪০–৬০ টাকা এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২০–৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শালগম, পেঁপে ও ব্রোকলি ৩০–৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে মৌসুমের বাইরে থাকা পটোল, করলা, ঢেঁড়স ও টমেটোর দাম কেজিতে ৭০–৮০ টাকা রয়েছে।
ডিম ও মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বর্তমানে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১১০–১১৫ টাকা এবং ফার্মের মুরগি ১৭০–১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২৫০–২৭০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, শীতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি ও চাহিদা কম থাকায় মুরগি দ্রুত বিক্রি করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
মাছের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ইলিশ, চিংড়িসহ বেশ কয়েকটি মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি নাজিরশাইল ও পোলাও চালের দাম কিছুটা বাড়লেও মিনিকেটসহ অন্যান্য চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কাঁচাবাজারে সবজি ও পেঁয়াজে স্বস্তি ফিরলেও চিনির দাম বৃদ্ধিতে ভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক