প্রথা ভেঙে খোলা প্রাঙ্গণে নতুন সরকারের শপথ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রথা ভেঙে খোলা প্রাঙ্গণে নতুন সরকারের শপথ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 14, 2026 ইং
প্রথা ভেঙে খোলা প্রাঙ্গণে নতুন সরকারের শপথ ছবির ক্যাপশন:

দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে। বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এর আগে একই দিনে সকালে দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকেই শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। শনিবার রাতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথের আয়োজন করা হচ্ছে দক্ষিণ প্লাজায়।

সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে। ফলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে দ্রুত শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের এক সময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কয়েকটি আসনে জয়ী হয়েছেন।

সাধারণত নতুন সরকারের শপথ রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পড়িয়ে থাকেন। তবে এবার স্থান পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত হলেও রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

এর আগে চব্বিশের আন্দোলনের পর মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়েছিল। সে সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে এবার শপথের স্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

শপথ আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গভবনের পক্ষ থেকেই দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—তা নিয়েও আলোচনা চলছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন।

প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।

সব মিলিয়ে, দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে। প্রথা ভেঙে খোলা প্রাঙ্গণে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন কেবল প্রতীকী পরিবর্তন নয়, বরং তা রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচন কি নিরাপদ ডিজিটাল পরিসরে? সাইবার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

নির্বাচন কি নিরাপদ ডিজিটাল পরিসরে? সাইবার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ