ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির সময় ব্যাংকগুলোকে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত অর্থ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভোটগ্রহণকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের নগদ অর্থ উত্তোলনে যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে লক্ষ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনী ছুটির সময়ে এটিএম বুথ সচল রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই সময়ে মোবাইল ফোনে কোনো সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় রিপোর্ট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন ছুটিতেও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ সংক্রান্ত সেবা স্বাভাবিক থাকবে। তবে এই সময়ে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের হিসাবে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর বা ইন্টারব্যাংক ইনস্ট্যান্ট ট্রান্সফার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে ছুটির সময়ে এই ধরনের লেনদেন করা যাবে না।
নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার রোধে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি আর্থিক লেনদেনের অপব্যবহার প্রতিরোধ করাই মূল উদ্দেশ্য।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমএফএস এবং এনপিএসবির আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লেনদেন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যক্তিগত হিসাবের লেনদেন সীমিত থাকবে। এই সময়ে নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো লেনদেন করা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত নির্বাচনকালীন সময়ে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন প্রতিরোধে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনী সময় ঘিরে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম বা সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।