গার্মেন্টস খাতে ধসের শঙ্কা, কমছে বিদেশি অর্ডার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গার্মেন্টস খাতে ধসের শঙ্কা, কমছে বিদেশি অর্ডার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 25, 2026 ইং
গার্মেন্টস খাতে ধসের শঙ্কা, কমছে বিদেশি অর্ডার ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ইউরোপীয় বাজারে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের প্রভাবে শিল্পটির উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর Pan Pacific Sonargaon হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন Bangladesh Knitwear Manufacturers and Exporters Association-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর অনেক ক্রেতা নতুন ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে অর্ডারের প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

তার মতে, বর্তমানে অনেক কারখানাই আগের তুলনায় সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা শিল্পের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা।

জ্বালানি সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্যাসের ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে কারখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেক কারখানা তাদের মোট উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেক নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

এ সময় ফজলে শামীম এহসান বলেন, উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে রপ্তানি আয়েও ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনাও দেখছেন শিল্প নেতারা। তারা মনে করছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে, বিশেষ করে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে চাহিদা বাড়লে পোশাক খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

এই অবস্থায় শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন Bangladesh International Textile, Knitting and Garment Expo 2026-এর বিস্তারিতও তুলে ধরা হয়।

জানানো হয়, আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে চারদিনব্যাপী এই প্রদর্শনী শুরু হবে, যা চলবে ২ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রদর্শক এবং ১,২০০টিরও বেশি বুথ নিয়ে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশসহ কানাডা, চীন, জাপান, ভারত, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ থাকবে।

প্রদর্শনীতে আধুনিক টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি, রং ও রাসায়নিক, নিটিং ও বয়ন প্রযুক্তি, কাটিং ও সেলাই যন্ত্রসহ বিভিন্ন শিল্প সরঞ্জাম প্রদর্শিত হবে।

এছাড়া শিল্পের বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে একাধিক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান সংকট সত্ত্বেও সঠিক নীতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিলে নিপীড়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় : আসিফ ম

সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিলে নিপীড়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় : আসিফ ম