মূল্যস্ফীতি থেকে ঋণের বোঝা—অর্থনীতিতে বাড়ছে ঝুঁকি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মূল্যস্ফীতি থেকে ঋণের বোঝা—অর্থনীতিতে বাড়ছে ঝুঁকি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 17, 2026 ইং
মূল্যস্ফীতি থেকে ঋণের বোঝা—অর্থনীতিতে বাড়ছে ঝুঁকি ছবির ক্যাপশন:
ad728

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক বড় ঝুঁকির মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক বাজারে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক আর বিনিয়োগে কড়াকড়ির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও ঋণের চাপ একসঙ্গে অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঝুঁকি সময়মতো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে। একই প্রতিবেদনে দ্বিতীয় বড় ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ। এই ঝুঁকিগুলো শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই; এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ প্রবাহে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন নতুন বাধা তৈরি করছে। ফলে উদীয়মান ও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই পরিবর্তন বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির টানাপোড়েন এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের পুনর্গঠন—এই ঘটনাগুলো দেশের আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। তার মতে, শুধু অভ্যন্তরীণ সংস্কার যথেষ্ট নয়; বৈশ্বিক ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুশাসন জোরদার, অপরাধ দমন, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা না করা হলে সামনে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।

ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে তৃতীয় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মূল্যস্ফীতিকে। টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং শিল্প ও ব্যবসা খাতে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

চতুর্থ ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক ধীরগতি। বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ মিলিয়ে প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পঞ্চম ও অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ঋণের বোঝা। সরকারি, করপোরেট ও পারিবারিক—সব স্তরেই ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। জাতীয় বাজেটে সুদ পরিশোধে বড় অঙ্কের ব্যয় উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ আটকে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ঝুঁকিগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
কুড়িগ্রাম-১ আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

কুড়িগ্রাম-১ আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা