চট্টগ্রাম বন্দরের জটে রমজানের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রাম বন্দরের জটে রমজানের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 19, 2026 ইং
চট্টগ্রাম বন্দরের জটে রমজানের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা ছবির ক্যাপশন:

আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জট, ধীরগতির খালাস এবং পরিবহন সংকটের কারণে বাজারে পণ্য সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। আমদানিকৃত ছোলার বড় অংশ, প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

এই বাড়তি আমদানির ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়তে শুরু করেছে। গত বছর যেখানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৯২ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে পাইকারি বাজারে তা কমে ৭৫ থেকে ৮২ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় ধরনের কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি না হলে রমজানজুড়ে ছোলার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

শুধু ছোলা নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যের আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ডিসেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে। একই সময়ে চিনির আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার টনে, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া মসুর ডালের আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং মটর ডালের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ। যদিও খেজুরের আমদানি কিছুটা কমেছে, তবে হিমাগারে আগের বছরের মজুত থাকায় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

তবে আমদানির এই স্বস্তিদায়ক চিত্রের মধ্যেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর-এর বর্তমান পরিস্থিতি। বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১১০টি পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে নোঙর করে আছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক জাহাজে রয়েছে রমজানে ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। সময়মতো এসব পণ্য খালাস না হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা কার্যত স্থবির ছিল বন্দরের কার্যক্রম। সাধারণ সময়ে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার কন্টেইনার খালাস করা সম্ভব হয়, কর্মবিরতির সময় তা কমে গড়ে ১ হাজার ৪৭৬টিতে নেমে আসে। এর ফলে বন্দরে কনটেইনারের চাপ দ্রুত বেড়ে যায়।

বর্তমানে জেটিতে কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ হাজার ৭২৫টি, যা স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে পণ্য দ্রুত খালাস এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিবহন শ্রমিক সংকট এবং পূর্ববর্তী কর্মবিরতির প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জেও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির পরিমাণ বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতার কারণে কিছু পণ্যের দামে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৬ থেকে ৪২ টাকায় উঠেছে। একই সঙ্গে রসুনের দাম বেড়ে প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আদা এবং মসুর ডালের দামেও বাড়তির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

কিছু ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, কিছু আমদানিকারক ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য বন্দরে বা জাহাজে আটকে রাখছেন, যার ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, চাহিদা এবং আমদানির মধ্যে বর্তমানে ভালো সামঞ্জস্য রয়েছে। তবে দ্রুত বন্দরের জট না কাটলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের নিত্যপণ্যের খালাসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বন্দরের জট অনেকটাই কমিয়ে পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাজারে পণ্যের প্রকৃত ঘাটতি নেই। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিকমতো পরিচালিত না হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখা, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের মামলায় পুলিশের হাতে রিয়াজ

বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের মামলায় পুলিশের হাতে রিয়াজ