মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে ইরানের একটি জাহাজ আটক করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজটি ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে জ্বালানি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
United States Central Command (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘এমভি সেভান’ নামের জাহাজটি একটি মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারের সহায়তায় আটক করা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
মার্কিন পক্ষের দাবি, এই জাহাজটি বিদেশি বাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি, তেল ও গ্যাস পণ্য পরিবহন করছিল, যার আর্থিক মূল্য বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান বিভিন্ন উপায়ে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি রপ্তানি করছে, যার একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে এই ‘শ্যাডো ফ্লিট’।
সেন্টকম আরও জানায়, ‘এমভি সেভান’ সম্প্রতি United States Department of the Treasury–এর নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ১৯টি জাহাজের একটি। এসব জাহাজকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাণিজ্য কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতেই মার্কিন বাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ইরানের উপকূল থেকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াবে এবং প্রয়োজনে সেগুলোকে আটক বা ফেরত পাঠাবে। এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
এছাড়া জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ এবং তাদের জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে এমন ঘটনায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং নিজেদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৈধ বলে দাবি করেছে।
সব মিলিয়ে, আরব সাগরে ইরানি জাহাজ আটকের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক