ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।
প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত নতুন করে আগামী ২ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে জুমার নামাজ আদায় করেন শরিফ ওসমান হাদি।
এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
দুপুর প্রায় ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ওই সময় তিনি একটি অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন।
হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হয়।
তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন।
নারাজি আবেদনে মামলার তদন্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পুনরায় তদন্তের দাবি করা হয়।
আবেদনটির শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করেন।
এরপর মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে।
সিআইডির মাধ্যমে মামলার নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আগামী নির্ধারিত তারিখে সিআইডি তাদের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে।
এদিকে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও সহকর্মীরা।
কসমিক ডেস্ক