বাজেট ঘোষণার পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেছে সরকার। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। তার মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিকল্পনার অন্তত ৮০ শতাংশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিদ্যমান কাঠামোকে সঠিকভাবে কার্যকর করতে সময় লাগবে। তার মতে, বর্তমান অর্থনীতিকে পুনর্গঠনে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন, এরপর ধীরে ধীরে চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে গিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের সম্পদ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা নানা আন্দোলন, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছে। এসব কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং মানুষের আস্থা কিছুটা কমেছে।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই বাজেটকে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শুধু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয় বরং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তার মতে, দেশের প্রতিটি নাগরিক এই বাজেটের আওতায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা অর্থনীতির নানা দিক নিয়ে মতামত দেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, ব্যাংকিং খাতের চাপ, এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংক খাতের তারল্য ও আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
অন্যদিকে অর্থসচিব জানান, সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনছে এবং বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে সুকুক বন্ডের মতো মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অর্থায়ন কাঠামো আরও বৈচিত্র্যময় করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসা সহজীকরণের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও পিছিয়ে থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে কাজ চলছে। একটি কোম্পানি স্থাপন বা অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিনিয়োগ নীতিমালা শুধু তৈরি করাই নয়, তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে, যারা নিয়মিত বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বাধ্য করবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিকল্পিত সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে আগামী কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে এবং প্রবৃদ্ধির নতুন ধাপে প্রবেশ করবে।
কসমিক ডেস্ক