কারওয়ান বাজারে গুলিতে নিহত বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কারওয়ান বাজারে গুলিতে নিহত বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 8, 2026 ইং
কারওয়ান বাজারে গুলিতে নিহত বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে স্টার কাবাব হোটেলের পেছনের একটি গলিতে।

এই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি মাসুদ (৫০) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর পাঁজরে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত মুছাব্বিরের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আহত মাসুদের বাড়ি কেরানীগঞ্জে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, গুলির পর অন্ধকার গলি থেকে দুই যুবক দৌড়ে স্টার কাবাব-সংলগ্ন কারওয়ান বাজারের প্রধান সড়ক হয়ে পালিয়ে যায়। তাদের একজনের মুখমণ্ডল মাফলার দিয়ে ঢাকা ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা আগে থেকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে ওত পেতে ছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুছাব্বিরকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর পেটে গুলি লেগেছিল।

ঘটনার পর রাতেই মুছাব্বিরের সমর্থকরা কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। টায়ার জ্বালিয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন তাঁরা। এতে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। তবে রাতের পরেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে রাজনৈতিক নেতা হত্যার এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ব্যাটের শব্দে দেশদ্রোহ, আর নীরবতায় মানবতা—হিংসার রাজনীতিতে ব

ব্যাটের শব্দে দেশদ্রোহ, আর নীরবতায় মানবতা—হিংসার রাজনীতিতে ব