নিবন্ধনহীন হাসপাতাল চলছে বহিষ্কৃত চিকিৎসকদের দিয়ে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নিবন্ধনহীন হাসপাতাল চলছে বহিষ্কৃত চিকিৎসকদের দিয়ে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 24, 2026 ইং
নিবন্ধনহীন হাসপাতাল চলছে বহিষ্কৃত চিকিৎসকদের দিয়ে ছবির ক্যাপশন:
ad728

রাজধানীর পরিবাগে অবস্থিত লিবার্টি হাসপাতাল দেড় বছর ধরে নিবন্ধন ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন চিকিৎসক নিয়মিতভাবে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনের মেয়াদ প্রায় দেড় বছর আগে শেষ হলেও তা নবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসব অনিয়মের মধ্যেই হাসপাতালটি থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আয় হলেও সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ২০০টি অস্ত্রোপচার এবং পাঁচ থেকে ছয় হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এতে আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা আয় হলেও রাজস্ব প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে লিবার্টি হাসপাতাল কার্যক্রম শুরু করে। তবে ওই বছরের জুন মাসে নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে দেড় বছর পার হলেও নিবন্ধন নবায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর হাসপাতালটিকে জরিমানা করে এবং পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই বিপ্লবের সময় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত কয়েকজন চিকিৎসক বর্তমানে লিবার্টি হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএমইউর সাবেক সহকারী প্রক্টর ও ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাজির উদ্দিন মোল্লাহ, ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারুক হোসেন মুন্সী, নিউরো সার্জন ডা. ফরিদ রায়হান এবং মেডিকেল অফিসার ডা. শরিফ উদ্দিন সিদ্দিকী। সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা সবাই ওই হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত ছিলেন।

হাসপাতালের মালিকানা কাঠামো নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, হাসপাতাল স্থাপনে প্রায় ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয় এবং ২৫ জন পরিচালক ছাড়াও আরও প্রায় ২০ জন শেয়ারধারী রয়েছেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন চিকিৎসক মালিকানায় না থেকেও জোরপূর্বক হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।

হাসপাতালের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে লিবার্টি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শেখ মুজাম্মেল হক বলেন, হাসপাতালটির নিবন্ধন নবায়নে কিছু জটিলতা ছিল। কয়েকটি লাইসেন্স ইতোমধ্যে করা হয়েছে, বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বহিষ্কৃত চিকিৎসকদের পুনর্বাসনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের চিকিৎসক রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন বাধ্যতামূলক। পরিবেশ অধিদপ্তর যেখানে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে কীভাবে হাসপাতালটি চলছে—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সৌদি আলটিমেটামের মুখে ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান

সৌদি আলটিমেটামের মুখে ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান