অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে দুই ফিলিস্তিনি পরিবারকে কয়েক দিন ধরে বাড়ির ভেতরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে বাড়িতে থাকা খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় বসতি স্থাপনকারীরা আবু রিদি পরিবারের বাড়ির বাইরের একটি দেয়াল ভেঙে ফেলে। পরে ভেঙে ফেলা দেয়ালের পাথর ব্যবহার করে বাড়ির সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দুই শিশুসহ সাতজন বাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্য পরিবারের সদস্য আয়েশা হাসান অভিযোগ করেছেন, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বাড়ির ফটক ভাঙার চেষ্টা করেছে এবং পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে। এতে পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এমনকি সাংবাদিকদেরও ওই এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় এবং পরিবার দুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলে।
মঙ্গলবার রাতে একটি ফিলিস্তিনি অ্যাম্বুলেন্স অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তাদের জন্য খাবার নেওয়ার পাশাপাশি এক শিশুকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও বসতি স্থাপনকারীদের নতুন ঘাঁটির সমালোচনা করে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে প্রবেশ করে দখল করা অবৈধ ও গ্রহণযোগ্য নয়। পরে ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের একটি ছাউনি সরিয়ে দেয় এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে নাবলুস অঞ্চল বিশেষভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক