ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করার পর এবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি কিউবা সরকারকে ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’ বলে মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার (৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানে চলমান আন্দোলনে যদি আবারও বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া’ জানাবে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অতীতের মতো সহিংসতা চলতে থাকলে তার জবাব কঠোর হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্যকে ‘সন্ত্রাস ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার শামিল’ বলে আখ্যা দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থি মহলের মন্তব্য দেশটির জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘ঔপনিবেশিক যুগের মানসিকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইরান ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতেও তেহরান এই নীতিতেই অটল থাকবে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘোষণা দেওয়ার পর ইসরায়েলি রাজনীতিক ইয়ার লাপিদ ইরানকে সতর্ক করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ইরানি নেতৃত্বের উচিত ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা ও ইরান—দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের সংকট হলেও মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সরাসরি পদক্ষেপ তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে মাদুরোকে আটক করার পর লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ কিউবার সরকার নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কিউবার সরকার শিগগিরই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। একই সঙ্গে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেন তিনি।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাতকড়া পরিয়ে হাজির করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
বিশ্ব রাজনীতিতে এই ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।