রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কৃষ্ণসাগর উপকূলের ওডেসা ও পিভদেননি বন্দরের বিভিন্ন অবকাঠামোতে সফল হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের একটি সমুদ্রগামী জাহাজ ও একটি উচ্চগতির নৌযানেও আঘাত হানার দাবি করেছে মস্কো।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কিয়েভে যেসব স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোতে ইউক্রেনের মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন তৈরি, সংরক্ষণ এবং সামরিক কাজে ব্যবহার করা হতো। এসব স্থাপনাকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে সেগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে রাশিয়া।
এছাড়া কৃষ্ণসাগর উপকূলের ওডেসা ও পিভদেননি বন্দরের অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এসব স্থাপনা সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ ও জ্বালানি গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। ওডেসা অঞ্চলের বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়া ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি সমুদ্রগামী জাহাজ এবং একটি উচ্চগতির নৌযানেও হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে মস্কো।
অন্যদিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের অন্তত দুটি জেলায় আঘাত হানে। হামলায় কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত দুইজন নিহত হন। আহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই একে অপরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন নিয়মিত রাশিয়ার তেল সংরক্ষণাগার, জ্বালানি অবকাঠামো ও জ্বালানিবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনের বন্দর, সামরিক ঘাঁটি, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং সরবরাহ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নেই; বরং দুই দেশই প্রতিপক্ষের অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামরিক রসদ পরিবহন দুর্বল করার কৌশল অনুসরণ করছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের বন্দরগুলো ইউক্রেনের বাণিজ্য ও সামরিক সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এগুলো হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীন যাচাই সব সময় সম্ভব হয় না। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে ইউক্রেনজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
কসমিক ডেস্ক