উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জেলার ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, যা স্থানীয়ভাবে বন্যার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিন অনুযায়ী, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ৮.৮৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে বিপৎসীমা ৮.৭০ মিটার, অর্থাৎ নদীর পানি বর্তমানে ১৬ সেন্টিমিটার (০.১৬ মিটার) বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৭.৩৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ০.৪৫ মিটার নিচে। লাউরেরগড় পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৭.৪৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ০.৬১ মিটার নিচে রয়েছে। এছাড়া দিরাই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৬.০৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ০.৪৯ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, জগন্নাথপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৬.৫২ মিটার এবং সোলেমানপুর পয়েন্টে ৬.৬০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই দুটি পয়েন্টের জন্য এখনো কোনো বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতও রেকর্ড করা হয়েছে। লাউরেরগড়ে সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জ সদরে ১১০ মিলিমিটার, ছাতকে ৪০ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে ছাতকসহ জেলার নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক