গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 11, 2026 ইং
গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে ছবির ক্যাপশন:
ad728

দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মিয়ানমারে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে ভোটাররা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সামরিক বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটিই মিয়ানমারে প্রথম নির্বাচন। তবে চলমান সংঘাত, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনটি তিন ধাপে আয়োজন করা হয়েছে, যার প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর।

প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ, যা মিয়ানমারের আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ওই ধাপে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনে ভোট হয়। ফলাফলে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ৯০টি আসনে জয় পায়। এই ফলাফলকে সামনে রেখে অনেক বিশ্লেষকই দাবি করছেন, নির্বাচনটির মূল লক্ষ্য ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার রাজনৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করা।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপের ভোটগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে আগামী ২৫ জানুয়ারি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটির বড় একটি অংশ এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে। সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, মিয়ানমারের মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে অন্তত ৫৬টিতে ভোটগ্রহণ হবে না। পাশাপাশি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পুরোপুরি নির্বাচন আয়োজনের বাইরে রাখা হয়েছে, যা ভোটের সার্বজনিকতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করছে।

জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাবেক নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসসহ প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া অং সান সু চি ও তাঁর দলের অনেক শীর্ষ নেতা বর্তমানে কারাবন্দি বা নির্বাসনে রয়েছেন। ফলে এই নির্বাচন প্রকৃত অর্থে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সমর্থনপুষ্ট সামরিক জান্তা সরকার এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে রাজনৈতিক বৈধতা জোরদার করতে চাচ্ছে। তবে চলমান সংঘাত ও বিরোধী দল দমনের বাস্তবতায় এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘আমরা থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’—বৈষম্যবিরোধী ছা

‘আমরা থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’—বৈষম্যবিরোধী ছা