ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে সেখানে তার আঞ্চলিক শেষযাত্রা শুরু হয়। শোকযাত্রায় অংশ নিতে ইরাকসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে, যার ফলে নাজাফের প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তেহরান ও কোমে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হয়। ইরাকের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে নাজাফে এই বিশেষ শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শোকযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই হাজারো মানুষ নাজাফের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন বহনকারী গাড়িকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষ শোক মিছিল করছেন। শোকযাত্রাটি ধীরে ধীরে ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজারের দিকে অগ্রসর হয়, যেখানে জানাজা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
মাজার প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অংশগ্রহণকারীরা দোয়া, শোক প্রকাশ এবং শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে খামেনিকে বিদায় জানান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরাকি কর্তৃপক্ষ নাজাফজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তবে খামেনির শেষযাত্রাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা জানিয়েছে, খামেনির জানাজা বা শোকযাত্রার নামে প্রচারিত কিছু ভিডিও ও ছবি পুরোনো অথবা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার। এসব ভিজ্যুয়ালকে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।
ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে উৎস যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে চলমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক