ইরানের চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বেপরোয়া ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং কোথায় আঘাত হানতে হবে, সে বিষয়েও তারা সম্পূর্ণ সচেতন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ইরানি কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা না চালানোর সতর্কবার্তা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। ওই পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘আমরা লকড অ্যান্ড লোডেড, যেতে প্রস্তুত।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। তিনি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে লেখেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে।
আরাকচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বোঝা উচিত, জনসম্পত্তিতে অপরাধমূলক হামলা কোনো রাষ্ট্রই সহ্য করে না। তিনি সতর্ক করে দেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ডেকে আনবে।
এদিকে ইরানে দুর্বল অর্থনীতি ও ঊর্ধ্বমুখী জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা বেড়েছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্যমতে, শনিবার পর্যন্ত নতুন করে দুইজন নিহত হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১০ জনে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে থাকা কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর হওয়া আন্দোলনের পর ইরানে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ। যদিও বর্তমান আন্দোলনের ব্যাপ্তি এখনো সে সময়ের মতো নয়।
এদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে একটি চিঠি পাঠান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়া বা বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা দেশটির সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়, এসব বক্তব্য থেকে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি বলেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য তা মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক ইস্যুতে একাধিকবার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
কসমিক ডেস্ক