নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে উত্তাল ইরান, ইন্টারনেট সীমিত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে উত্তাল ইরান, ইন্টারনেট সীমিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 6, 2026 ইং
নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে উত্তাল ইরান, ইন্টারনেট সীমিত ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী তেহরানসহ ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানের প্রায় ৪০টি শহরে বিক্ষোভ চলছে। কোথাও বড় জমায়েত, আবার কোথাও ছোট ছোট প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। “স্বৈরাচার নিপাত যাক”—এ ধরনের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ।

এক সপ্তাহ আগে এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। শুরুতে দোকানিরা দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভে নামেন। পরবর্তীতে সেই আন্দোলন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক দাবি থেকে রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের বক্তব্যেও সেই ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে মেহনাজ নামের এক নারী বিক্ষোভকারী বলেন, “মা ভয় পাচ্ছেন, তবুও আমি রাস্তায় নেমেছি।” আরেক বিক্ষোভকারী রেজা বলেন, “আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এই আন্দোলন জরুরি। এই শাসনের অধীনে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই—এটা আমরা বুঝে গেছি।”

২০২২ সালে মাহশা আমিনি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে গণবিক্ষোভ হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা এখনো ইরানি সরকারের মনে গভীরভাবে রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দাবিগুলো যৌক্তিক হলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এদিকে বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত করার অভিযোগ উঠেছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোনে কল করাও সম্ভব হচ্ছে না।

তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেনি। দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী সাত্তার হাশেমি দাবি করেছেন, রোববার ইরানে একটি সাইবার হামলা হয়েছে। এর ফলে ইন্টারনেটের গতি ও সংযোগে সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অসন্তোষ ও দমন-পীড়নের সমন্বয়ে ইরান এখন আবারও এক অস্থির সময়ের মুখোমুখি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অপারেশন চললেও থামছে না খুন ও গুলির ঘটনা

অপারেশন চললেও থামছে না খুন ও গুলির ঘটনা