হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, প্রণালিটি খোলা বা বন্ধ থাকার বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ও প্রতিশ্রুতি পালনের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে দেশটি ওমানের সঙ্গে একটি নতুন বিকল্প নৌপথ চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানিয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, ইরান ও ওমান এমন একটি নতুন নৌপথ নিয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত বিকল্প নৌপথের কারিগরি বা ভৌগোলিক বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নৌপথ চালুর পরিকল্পনা থাকলেও হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এর ওপর নির্ভর করছে না। ইসমাইল বাগাই দাবি করেন, মার্কিন সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নৌ-অবরোধ এবং বৈরী নীতির কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ২০ শতাংশ খনিজ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এ জলপথে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিকল্প নৌপথ নিয়ে ইরান-ওমানের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক