দিল্লি–ইসলামাবাদ নির্ভরতার বাইরে যেতে চায় ঢাকা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দিল্লি–ইসলামাবাদ নির্ভরতার বাইরে যেতে চায় ঢাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 23, 2026 ইং
দিল্লি–ইসলামাবাদ নির্ভরতার বাইরে যেতে চায় ঢাকা ছবির ক্যাপশন:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক নির্বাচনী রায় দিয়েছে। এই রায় শুধু একটি দলের বিজয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমনপীড়ন, শাসন কাঠামো এবং কূটনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে জনতার স্পষ্ট অবস্থান হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম অস্থির সময় পার করে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। দলটির নেতৃত্বে বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমনপীড়নের পর পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। ওই সময়ে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু দেশজুড়ে গভীর ক্ষোভের জন্ম দেয়।

শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর দিল্লিতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এই রায় কেবল দেশের ভেতরে নয়, আঞ্চলিক কূটনীতিতেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সরকার তাকে প্রত্যর্পণে অস্বীকৃতি জানায়। এতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই নির্বাচনী রায় দীর্ঘদিনের দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে এটি নয়াদিল্লির সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরও স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান। ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা বললেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করেন। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তার শাসনামলের বড় অংশ জুড়ে ছিল।

পররাষ্ট্রনীতিতে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান ছিল ভারতের দিকে স্পষ্টভাবে ঝুঁকেপড়া। তার ১৫ বছরের শাসনামলে সাতবার ভারত সফর সেই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। সমালোচকদের মতে, এই সময়কালে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নিরাপত্তা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেটওয়ার্ক দমনে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে ওঠে।

তবে এই সহযোগিতার বিপরীতে অনেক অমীমাংসিত বিষয় থেকেই যায়। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হয়নি, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিল এবং জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ক্রমেই ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বড় অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত অনুমোদিত হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান ঘোষণা দেন—‘নট দিল্লি, নট পিণ্ডি, বাংলাদেশ সবার আগে।’ এই বক্তব্য তার নেতৃত্বের কূটনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত দেয়। শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ বিরতির পর করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়, পাকিস্তানি মন্ত্রীরা বাংলাদেশ সফর করেন এবং সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয়। বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে যেখানে দোলক ভারতের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকেছিল, সেখানে এখন উল্টো দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তবে তারেক রহমান ইতোমধ্যে দিল্লি ও ইসলামাবাদ—উভয় দিক থেকেই শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের অস্বীকৃতি দেশে ভারতবিরোধী মনোভাবকে আরও জোরালো করেছে।

তবুও জনমতের চিত্র একমুখী নয়। অনেকেই বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন। তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে—স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চালু রাখা।

এই নির্বাচনী রায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন ভাবনার দুয়ার খুলেছে। বাংলাদেশ আর কোনো একক শক্তির প্রভাব বলয়ে আবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে, চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণও এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নাটকীয় কোনো মোড় নয়, বরং স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দেশটি নিজের স্বার্থের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ আরও আত্মবিশ্বাসী ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত—এই ইঙ্গিতই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক নির্বাচনী রায় থেকে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দেশজুড়ে অস্থিরতা, হাদি হত্যার খবরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে আতঙ্

দেশজুড়ে অস্থিরতা, হাদি হত্যার খবরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে আতঙ্