সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এই অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার ঘাটতি ও ব্যয় দক্ষতা নিয়ে একটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে Power and Participation Research Centre (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।
মন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু চক্র সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায় এবং সেখানে কমিশনভিত্তিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। এই ধরনের “টেস্ট বাণিজ্য” বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অপচয় হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ক্লিনিক পরিচালনা, রোগীকে নির্দিষ্ট স্থানে টেস্ট করাতে বাধ্য করা কিংবা কমিশন নেওয়ার মতো কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র এবং জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সাইকেল, স্মার্টফোন ও এআইসমৃদ্ধ কিট দেওয়া হবে, যাতে তারা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারেন।
স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো অবস্থাতেই ঘুষ দেওয়া যাবে না এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
কসমিক ডেস্ক