লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এখন থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌচলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে এবং যেকোনো ধরনের গতিবিধি দেখা গেলে তা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ লোহিত সাগরে নতুন করে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে আগে থেকেই হুতি গোষ্ঠীর হামলার কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল।
হুতি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌচলাচলের ওপর সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি।” একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলের ওপর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা এপ্রিলের পর প্রথম বড় ধরনের আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া এক বিবৃতিতে জানান, ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এই হামলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সংঘাত চলাকালীন সময়ে হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এসব আক্রমণ চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ঘোষণা শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লোহিত সাগর বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক শিপিং খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ইয়েমেনের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের ছায়ায় হুতি গোষ্ঠীর এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে ইসরায়েল-হুতি উত্তেজনা এখন আঞ্চলিক সংঘাতের পরিধি বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যত সামরিক হুঁশিয়ারির অংশ, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের দিকে পরিস্থিতিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে নৌনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর উপস্থিতি ও টহল আরও বাড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে এই সংঘাত শুধু ইয়েমেন বা ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক