মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার বিশ্বাস দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এ সমঝোতা কার্যকর থাকবে বলে তিনি মনে করেন না।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয়, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।" তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্পর্ক উন্নয়নে তার আগ্রহ নেই এবং চলমান আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের আলোচকরা যোগাযোগ অব্যাহত রাখলেও তা বাস্তবসম্মত কোনো সমাধান আনতে পারবে না। তিনি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় সামরিক অভিযান চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনা এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করেছে। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর কথা নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক হামলা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে পূর্ববর্তী সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
আরাগচি আরও বলেন, ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি সতর্ক করে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে সংশ্লিষ্ট উৎসকেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর প্রভাব জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।
কসমিক ডেস্ক