কুষ্টিয়ার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা আমির হামজা নরসিংদী ও রামপুরায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তিনি নিজ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ফেসবুক পোস্টে আমির হামজা উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের পরিকল্পনা ছিল উত্তর বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করা। পুরনো ক্ষমতার অপপ্রয়োগ আর দেখা যাবে না—এটাই ছিল তাদের কাম্য। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এই স্বপ্নের উপরে কেবল বালিচাপা পড়তে দেখা যাচ্ছে। বালিচাপার অন্তরাল থেকে মাথা বের করে স্বপ্ন দেখাটাও দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, নরসিংদীতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক নারীর হত্যাকাণ্ডে তার পরিবার বিচারের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় নেতৃত্ব বিষয়টি চাপা দিতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নিরপরাধ নারী রক্ষা পাননি। তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করে সরিষাক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়।
পাশাপাশি রাজধানীর রামপুরায় মাত্র ৬ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণপূর্বক হত্যা করা হয়। পুলিশের জেরার অভাবে প্রথমে মামলা গ্রহণ হয়নি। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা থানায় অবস্থান করলে মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। তবে শোনা যাচ্ছে, ভিক্টিমের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
আমির হামজা প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা ৫ই আগস্টের পরও ঘটতে পারে—এতে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের দুর্বলতা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপের অভাব প্রকাশ পায়। তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন, যারা প্রশাসনের সহযোগিতা ব্যাহত করছে তাদের নাম প্রকাশ করুন, যাতে দেশের মানুষ প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশকে পুরনো বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ফেরানো যাবে না।
তিনি আরও বলেন, মূলধারার মিডিয়া, সুশীল সমাজ, প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন এবং নারীবাদীরা গুরুতর বিষয় নিয়ে নিশ্চুপ থাকায় তিনি গভীরভাবে চিন্তিত। এই সিলেক্টিভ প্রতিবাদ-স্লোগান দেশের মানুষের বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করছে এবং যথাযথ প্রতিকার বাধাগ্রস্ত করছে।
আমির হামজা বলেছেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি নরসিংদী ও রামপুরার ঘটনার প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি প্রার্থনা করেছেন, আল্লাহ তায়ালা মৃতদের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতবাসী করুন।
এতে বোঝা যায়, দেশের সমাজ ও প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণ, মিডিয়া এবং সরকারকে মিলিতভাবে শিশু ও নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আর ঘটতে না পারে। আমির হামজা এই বার্তায় সমাজকে সতর্ক করেছেন, ন্যায় এবং সুরক্ষা প্রতিষ্ঠায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
কসমিক ডেস্ক