বলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান অভিনেতা রাজপাল যাদব এবার বড়সড় আইনি বিপাকে পড়েছেন। চেক বাউন্স সংক্রান্ত একটি মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মামলায় আদালত একাধিকবার সময় দিলেও অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্ট রাজপাল যাদবকে আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়। তবে এরপরও তিনি পুনরায় আইনি লড়াই চালিয়ে আত্মসমর্পণ এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। আদালতের কাছে তিনি একটি প্রস্তাবও দেন— তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করবেন এবং বাকি টাকা পরে পরিশোধ করবেন।
কিন্তু আদালত তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজপাল যাদব এর আগেও একাধিকবার সময় ও সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে এবার আর নতুন করে সময় দেওয়ার সুযোগ নেই বলেই আদালত মন্তব্য করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিনেতার বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি টাকার ঋণসংক্রান্ত দায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মোট সাতটি পৃথক অভিযোগে তার বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে কিছু অর্থ তিনি জমা দিলেও পুরো টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এর আগে রাজপাল যাদব কিছুদিন জামিনে মুক্ত ছিলেন। সে সময় তিনি আদালতকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বকেয়া অর্থ পরিশোধ করবেন। আদালত সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে তাকে সময় দিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একাধিকবার সুযোগ পাওয়ার পরও তিনি টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আদালত আরও উল্লেখ করে, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় এই মামলায় দ্রুত আত্মসমর্পণ করাই একমাত্র পথ। তবে আত্মসমর্পণের পর নতুন করে অর্থ পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে বলেও আদালত জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় আদালতের এই কঠোর অবস্থান রাজপাল যাদবের জন্য বড় ধাক্কা। একইসঙ্গে এটি বিনোদন জগতের তারকাদের আর্থিক দায়বদ্ধতা ও আইনি জটিলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক