কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জোহার হায়াত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, দুটি পাওয়ার জেনারেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোন হামলার কারণে কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানায়, এই হামলা দেশটির বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জোহার হায়াত বলেন, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার শুরুতে ইরান এসব স্থাপনায় হামলা চালানো শুরু করে। তবে গত কয়েক দিনে কুয়েতের জ্বালানি এবং শক্তি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইরান ক্রমবর্ধমান হামলা চালাচ্ছে। তিনি এই হামলাকে ‘ক্রিমিনাল আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এর আগে এপ্রিলের শুরুতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছিল। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ৩৭তম দিনে পৌঁছেছে। এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে, বিশেষত কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তি সরবরাহ ও স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোর উপর ক্ষতি শুধু দেশীয় প্রয়োজন মেটাতে সমস্যা সৃষ্টি করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন তেহরানের সম্ভাব্য নতুন হামলার দিকে সতর্ক নজর রাখছে। কুয়েত প্রশাসন ইতিমধ্যেই অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হবে।
সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব হিসেবে কুয়েতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরণের হামলা চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক