সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিনের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রবিবার (১৪ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালতে এই আবেদন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে বলা হয়, হাইকোর্ট যে দুটি মামলায় ডা. দীপু মনিকে জামিন দিয়েছেন, সেই আদেশ স্থগিত করা প্রয়োজন। বিষয়টি এখন আপিল বিভাগের বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এর আগে সংশ্লিষ্ট দুই মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন প্রদান করেন। তবে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে।
ডা. দীপু মনির আইনজীবী রমজান আলী শিকদার গণমাধ্যমকে জানান, তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে দুইটিতে হাইকোর্ট বিভাগ রুল দিয়ে জামিন দিয়েছেন।
এছাড়া আরও ১৩টি মামলায় জামিন প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে বলে তিনি জানান। ফলে তার আইনগত পরিস্থিতি একাধিক আদালতের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
ডা. দীপু মনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন পরিচিত মুখ। তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত সরকারের সময়ে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
তার রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মামলা ও আইনি জটিলতায় তিনি আলোচনায় রয়েছেন। হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং সহিংসতার নির্দেশনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে জামিন ও স্থগিতাদেশ নিয়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই অব্যাহত আছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক মামলায় জামিন ও স্থগিতাদেশের বিষয়গুলো উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এবং এটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
এই অবস্থায় আপিল বিভাগের পরবর্তী শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন কী সিদ্ধান্তে গড়ায়, সে দিকেই এখন নজর আইন অঙ্গনের।
কসমিক ডেস্ক