উপবৃত্তির টাকা বেশি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে এই প্রতারণার ঘটনা সামনে আসার পর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়ভাবে। প্রতারকরা কলেজ ও সমাজসেবা অফিসের পরিচয় ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে কল করে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং ওটিপি সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা বলে একটি নম্বর থেকে কল আসে। প্রথমে শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে কি না, কত টাকা এসেছে—এসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়। পরে আরও বেশি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোবাইলে পাঠানো ওটিপি নম্বর জানতে চাওয়া হয়। সরল বিশ্বাসে ওটিপি জানিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো টাকাই তুলে নেওয়া হয়।
তবে সচেতনতার কারণে আরেকটি পরিবার একই ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। প্রতারকরা শিক্ষার্থীর নাম, বাবার নাম ও রোল নম্বর উল্লেখ করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করার চেষ্টা করে। পরে অতিরিক্ত উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওটিপি জানতে চায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা কোনো তথ্য না দিয়ে সরাসরি কলেজে যোগাযোগ করেন এবং এটি প্রতারণার চেষ্টা বলে নিশ্চিত হন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, উপবৃত্তি সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা ওটিপি সংগ্রহের জন্য তারা কখনো ফোন করে না। একইভাবে সমাজসেবা অফিস থেকেও এ ধরনের কোনো কল করা হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ওটিপি, পিন নম্বর বা ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। উপবৃত্তি বা সরকারি আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ উপায়।
কসমিক ডেস্ক