সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সচেতনভাবে ভাবতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ১০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা, মতবিরোধ এবং বক্তব্য থাকবে—যা অনেক সময় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে, আবার অনেক সময় বিভ্রান্তিও তৈরি করতে পারে।
তার ভাষায়, সংসদের আলোচনা শুনে যেমন কারও ভালো লাগতে পারে, আবার কারও কাছে তা অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে। একইভাবে, রাস্তায় বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তৃতা বা টেলিভিশনের টকশোও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে রয়েছে। এই মাধ্যমটি যেমন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেয়, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে। তাই এসব তথ্য যাচাই-বাছাই না করে গ্রহণ করা উচিত নয় বলে পরামর্শ দেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া-এর মতো উন্নত দেশগুলোও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেখানে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই মাধ্যম সবসময় ইতিবাচক বিষয় তুলে ধরে না, বরং অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে।
বাংলাদেশেও এই প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে বলে মনে করেন তিনি। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তবে তিনি শুধু সমস্যার কথা উল্লেখ করেই থেমে থাকেননি, বরং হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সম্ভাবনাও রয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। দেশের মাথাপিছু আয় এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, এখনো দেশের একটি বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং অনেক মানুষ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতা দেশের উন্নয়নের পথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তার মতে, বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি সম্ভব।
সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এই বক্তব্য বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সচেতনতার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক