রাজধানীর মিরপুরে এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধের ঘাটতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ওই বৃদ্ধা নারীর করুণ মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, একজন মা যিনি জীবনের শেষ সময়ে একাকী অবস্থায় মারা গেছেন, তার সন্তানরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চপদে কর্মরত হলেও মায়ের খোঁজ নেওয়ার সুযোগ বা সময় বের করতে পারেননি।
আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, বৃদ্ধার একজন ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আরেকজন যুগ্মসচিব এবং অন্য একজন বিদেশে বসবাস করেন। জাগতিক অর্থে তারা সফলতার শীর্ষে পৌঁছালেও মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সমাজের অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান। কিন্তু সেই শিক্ষার সঙ্গে যদি মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ না থাকে, তাহলে সেই সফলতা প্রকৃত অর্থে পূর্ণতা পায় না।
নিজের বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন সফলতার প্রয়োজন নেই, যা একজন সন্তানকে নিজের অসুস্থ বা একাকী মায়ের পাশে দাঁড়ানোর সময়ও দেয় না। তার মতে, কেবল অর্থনৈতিক বা পেশাগত সাফল্য নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্বও সমানভাবে শেখানো প্রয়োজন।
আহমাদুল্লাহ বলেন, দীন, নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে উপেক্ষা করে যদি সমাজ শুধু বস্তুবাদী সফলতার পেছনে ছুটতে থাকে, তাহলে এ ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানকে শুধু শিক্ষিত নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
তার বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।” এই বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে এবং অনেকেই এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।
উল্লেখ্য, রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রায় সাত থেকে আট দিন পর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজে পারিবারিক সম্পর্ক, বয়স্কদের যত্ন এবং মানবিক দায়িত্ববোধের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবার ও বিশেষ করে বয়স্ক বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত রাখা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
কসমিক ডেস্ক