ফরিদপুর মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ২০ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ফরিদপুর মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ২০

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 2, 2026 ইং
ফরিদপুর মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ২০ ছবির ক্যাপশন:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (০১ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই নতুন মৃত্যুর ঘটনায় চলতি বছরে হাসপাতালটিতে হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।

মৃত দুই শিশু হলো গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তারা দুজনই হাম উপসর্গ নিয়ে কিছুদিন আগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সোমবার তাদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে ফরিদপুর মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক শিশুই জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আসছে, যার ফলে চিকিৎসা দেওয়ার পরও সব ক্ষেত্রে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু সংখ্যা ২০ জনে পৌঁছেছে। এটি স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, হাসপাতালে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে একটি ২০ দিনের টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা। স্বাস্থ্য বিভাগের আশা, এই ক্যাম্পেইন শেষ হলে রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। সময়মতো টিকা প্রদান এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু না করলে জটিলতা বাড়তে পারে। তাই অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরের সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে একটি জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়েছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্কও বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, ফরিদপুর মেডিকেলে হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যুর এই ঘটনা আবারও জনস্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা, টিকাদান কার্যক্রম এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় জেট ফুয়েলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় জেট ফুয়েলের দাম