তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের পেশাগত কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনৈতিক বাধা বা হস্তক্ষেপ সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।
সোমবার সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজের বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা বাধা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, টেলিভিশন ও লাইভ মিডিয়া সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, কারণ সেখানে তথ্য সরাসরি প্রচারিত হয় এবং বিকৃতির সুযোগ কম থাকে। তাই লাইভ মিডিয়ার প্রসার সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সরকার জবাবদিহিতার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই আলোকে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমের সম্পাদক, মালিক ও সাংবাদিক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেখানে তারা পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বর্তমানে সাংবাদিকরা কোনো সরকারি চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যেসব মামলা বা অভিযোগ উঠছে, সেগুলো সরকার খতিয়ে দেখছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সাংবাদিককে যেন অকাট্য প্রমাণ ছাড়া হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো না হয়—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি বলেন, যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকে, তাহলে প্রচলিত আইনের আওতায় তার বিচার হবে। কিন্তু ঢালাওভাবে হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যম দেশের উন্নয়ন, সমস্যা ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সবশেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কসমিক ডেস্ক