ক্যান্সার চিকিৎসায় লাগবে না কেমো, স্মার্ট ওষুধ আবিষ্কারের ঘোষণা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ক্যান্সার চিকিৎসায় লাগবে না কেমো, স্মার্ট ওষুধ আবিষ্কারের ঘোষণা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 6, 2026 ইং
ক্যান্সার চিকিৎসায় লাগবে না কেমো, স্মার্ট ওষুধ আবিষ্কারের ঘোষণা ছবির ক্যাপশন: ক্যান্সার চিকিৎসায় লাগবে না কেমো, স্মার্ট ওষুধ আবিষ্কারের ঘোষণা

ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা হতে পারে— এমনই আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (এএসসিও)-২০২৬’-এ। প্রায় ৪০ হাজার বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে নতুন ওষুধ, উন্নত থেরাপি এবং জীবনধারাভিত্তিক চিকিৎসা নিয়ে ২ হাজার ৭০০-এর বেশি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়েছে।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও প্রয়োগ: বিশ্বজুড়ে ক্যান্সার চিকিৎসার ফলাফল উন্নয়ন”। গবেষকদের মতে, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ভবিষ্যতে অনেক ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসা আরও কার্যকর ও রোগীবান্ধব হতে পারে।

সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ‘জিআরডব্লিউডি৫৭৬৯’ নামের একটি পরীক্ষামূলক স্মার্ট ওষুধ। গবেষকদের দাবি, এই ওষুধ ক্যান্সার কোষের এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেয়, যার মাধ্যমে কোষগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে ইমিউন সিস্টেম সহজেই ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত পরীক্ষায় ৮৩ জন রোগীর মধ্যে ২৬ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এর মধ্যে ১৫ জনের ক্ষেত্রে টিউমার ৩০ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে। গবেষকরা এই প্রযুক্তিকে ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি সম্ভাবনাময় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের চিকিৎসাতেও আশার খবর পাওয়া গেছে। ‘দারাক্সনরাসিব’ নামের একটি নতুন দৈনিক ওষুধ রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় ৫০০ রোগীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, নতুন ওষুধ গ্রহণকারীরা গড়ে ১৩ দশমিক ২ মাস বেঁচে ছিলেন, যেখানে প্রচলিত চিকিৎসায় এই সময় ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৬ থেকে ৬ দশমিক ৭ মাস। বিশেষজ্ঞরা এটিকে প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এএসসিও সম্মেলনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে— কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ছাড়াই নিরাপদ চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় প্রায় চার হাজার স্তন ক্যান্সার রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। জিনগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় কোন রোগীরা কেমোথেরাপি ছাড়াই শুধুমাত্র হরমোন থেরাপির মাধ্যমে সফলভাবে চিকিৎসা নিতে পারবেন। ফলাফল দেখিয়েছে, নিম্ন ঝুঁকির অনেক রোগীর জন্য কেমোথেরাপি এড়ানো সম্ভব।

অন্যদিকে ব্লাডার ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন ধরনের ইমিউনোথেরাপি ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন কমিয়ে আনার সম্ভাবনাও দেখা গেছে।

তবে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির পাশাপাশি উদ্বেগের খবরও এসেছে। গবেষকদের মতে, দ্রুত বাড়তে থাকা ও বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে আগামী দশকগুলোতে বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে বছরে প্রায় ২ কোটি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটির বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। গবেষণায় অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা এবং খারাপ ঘুমের অভ্যাসের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যোগব্যায়াম ক্যান্সার রোগীদের উদ্বেগ, ক্লান্তি ও অনিদ্রা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে— উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা। এসব ক্ষেত্রের সমন্বিত অগ্রগতি ক্যান্সার চিকিৎসাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করে তুলতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সাদ্দামের মতো পরিণতি কোনো দলের কর্মীর না হোক: রুমিন ফারহানা

সাদ্দামের মতো পরিণতি কোনো দলের কর্মীর না হোক: রুমিন ফারহানা